রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন
মুহাম্মদ এরশাদ, চট্টগ্রাম থেকেঃ
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় রাজনীতির আড়ালে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর উঠেছে পাহাড়তলী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার উদ্দিন বশরের দিকে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন ইফতেখার উদ্দিন বশর। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইফতেখার উদ্দিন বশরকে মাদক সেবনের মতো একটি দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই ছবিটি ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পাহাড়তলী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন ওই নেতা। তাদের দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এবং সেই প্রভাবের কারণেই এতদিন কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পায়নি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ বলছে, মাদকের মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক নেতার সম্পৃক্ততা থাকলে তা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা মনে করেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী ছবিটি শেয়ার করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, একজন রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা সংগঠন ও রাজনীতির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এদিকে সচেতন মহল থেকে দাবি উঠেছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংগঠন থেকেও তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেক সময় সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের আগেই বিষয়গুলো আলোচনায় চলে আসে। তাই প্রশাসনের উচিত অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
এ বিষয়ে পাহাড়তলী থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি ও অভিযোগের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তবে কোনো অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হলে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ প্রয়োজন। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের জন্য এমন অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসের অভিযোগে আলোচনায় আসা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়তলী এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এখন সবার নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।